শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০১৭

সাধ ছিল


সাধ এই ছিল বাসিব ভালো তোমারে দিয়া মন প্রাণ,
ভাবি নাই কভু ফিরে যেতে হবে সাথে লয়ে এত অপমান,
বুঝেছি তোমার পাষান  হৃদয়ে  ভালো বাসা বলে কিছু নাই,
তাই তো তোমাকে কতবার যেন নিকষা বলেছি তাই,
বুঝিয়াছি আমি বুঝিয়াছি ভুল বুঝিয়াছি সব হারাইয়ে,
ভালোবাসা আছে তোমারই মনেতে শুধু আমাকে দিয়াছো ফিরাইয়ে,
দেখিয়াছি আরও ভালোবাসা কতো তুমি তাকে যবে চুমতে,
  হৃদয় আমার কাঁদিয়া উঠিতো তোমার ঐ চুমু গুনতে,
এসব দেখিয়া মনেতে বাসনা ভালোবাসা ফিরে চাইতে,
তুমি থেকে মোরে আপনি বানাইয়া দাও নাই কাছে যাইতে,
বলিয়াছি আমি বাসিয়াছি ভালো মনে কি পরেনা সে কথাকে,
তুমিও কহিলা সে ভালোবাসে মোরে পারব না তাকে ঠকাতে,
আমি কহিলাম বেশ তবে আমি তোমাকে যাব ভুলিয়া,
কত কিছু দেখে আর কত মাস কিভাবে গিয়েছে চলিয়া,
দেখিয়াছি আমি কত হাসা হাসি,
গায়ে ঘেষা ঘেষা কত বার,
সে রাগ করিলে তুমি ব্যাথা পেতে তুমি  জ্বলিতো তোমার অন্তর,
কত না তুমি ঝগড়া করেছো কত না তোমাকে হাসাতে,
না ভাঙলে অভিমান তার চোখের জলেতে ভাসাতে,
 ফের ভাবিয়াছি এত ভালোবাসা পাইতাম যদি কিঞ্চিৎ,
দাও নাই কভু ভালোবাসা মোরে করিয়া দিয়াছো বঞ্চিত,
কহিলাম আমি জানতো আবার  ভালোবাসিতে চায় প্রান,
 তুমিও কহিলা সহিতে পারিনা আপনার এই ঘ্যান ঘ্যান,
বারে বারে কেন ভালোবাসা পেতে  তোমার  কাছেতে আমি যাই,
 বাসিবনা ভালো লাঞ্ছনা সয়ে, পন করেছি আমি তাই |
(Bipu bala)

শনিবার, ১ জুলাই, ২০১৭

নবগ্রহের গায়ত্রী মন্ত্র, নবগ্রহ স্তব বিধি


যারা অশুভ শক্তিকে পরাহিত করে শান্তি আনায়ন করতে চান সেই সাধকের জন্য নবগ্রহ স্তব ও গায়ত্রী মন্ত্র জপ করা অপরিহার্য। নিম্নে সাধকের জন্য বিষ্ণুধর্মোত্তরে উল্লেখিত-

গোচরে বা বিলগ্নে বা সে গ্রহারিষ্টসূচকাঃ।
পূজয়ে তান্ প্রযন্তেন পূজিতাঃ স্যুঃ শুভপ্রদাঃ।।

(গোচরে বা জন্মকুণ্ডলীতে যে গ্রহ অনিষ্টকারক, তার শান্তি করিয়ে প্রসন্নতা লাভ করানো প্রয়োজন। প্রসন্ন হয়ে সেই গ্রহ শুভ ফল প্রদান করেন। নবগ্রহ স্তব ও গায়ত্রী মন্ত্র জপের দ্বারা গ্রহগণের শান্তি অতি শীঘ্রই হয়ে থাকে অর্থাৎ নবগ্রহের শান্তি মানে আমাদের শান্তি)।

নবগ্রহ স্তব বিধি
নব গ্রহস্তোত্রম্

জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।।
দিব্যশঙ্খতুষারাভং ক্ষীরোদার্ণব সম্ভবম্।
নমামি শশিনং ভক্ত্যা শম্ভোর্মুকুট ভূষণম।।
ধরণীগর্ভসম্ভুতং বিদ্যুৎপুঞ্জসমপ্রভম।
কুমারং শক্তিহস্তষ্ণ লোহিতাঙ্গং নমাম্যহম।।
প্রিয়ঙ্গুকলিকাশ্যামং রূপেণাপ্রতিমং বুধম্।
সৌম্যং সর্বগুণোপেতং নমামি শশিনঃ সুতম্।।
দেবতানামৃষীণাঞ্চ গুরুং কনকসন্নিভম্।
বন্দ্যভূতং ত্রিলোকেশং তং নমামি বৃহস্পতিম্।।
হিমকুন্দমৃণালাভং দৈত্যানাং পরমং গুরুম্।
সর্বশাস্ত্র প্রবক্তারং ভার্গবং প্রণমাম্যহম্।।
নীলাঞ্জনচয়প্রখ্যং রবিসুনুং মহাগ্রহম্।
ছায়ায়া গর্ভসম্ভুতং বন্দে ভক্ত্যা শনৈশ্চরম্।।
অর্দ্ধকায়ং মহাঘোরং চন্দ্রাদিত্যবিমর্দ্দকম্।
সিংহিকায়াঃ সূতং রৌদ্রং ত্বং রাহুং প্রণমাম্যহম্।।
পলালধুমসঙ্কাশং তারাগ্রহবিমর্দ্দকম্।
রৌদ্রং রুদ্রাত্মকং ক্রুরং তং কেতুং প্রণমাম্যহম্।।

নবগ্রহের গায়ত্রী মন্ত্র

(১) রবি (সূর্য) গ্রহ- ওঁ ভাস্করায় বিদ্মহে মহাতেজায় ধীমহিঃ তন্নঃ সূর্যঃ প্রচোদয়াৎ।

(২) সোম (চন্দ্র) গ্রহ- ওঁ ক্ষীরপুত্রায় বিদ্মহে অমৃতত্বায় ধীমহিঃ তন্নঃ চন্দ্রঃ প্রচোদয়াৎ।

(৩) মঙ্গল গ্রহ- ওঁ অঙ্গরকায় বিদ্মহে শক্তিহস্তায় ধীমহিঃ তন্নঃ ভৌমঃ প্রচোদয়াৎ।

(৪) বুধ গ্রহ- ওঁ সৌম্যরূপায় বিদ্মহে বাণেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ বুধঃ প্রচোদয়াৎ।

(৫) বৃহস্পতি গ্রহ- ওঁ আঙ্গিরসায় বিদ্মহে দণ্ডায়ুধায় ধীমহিঃ তন্নঃ জীবঃ প্রচোদয়াৎ।

(৬) শুক্র গ্রহ- ওঁ ভৃগুসুতায় বিদ্মহে দিব্যদেহায় ধীমহিঃ তন্নঃ শুত্রঃ প্রচোদয়াৎ।

(৭) শনি গ্রহ- ওঁ সূর্যপুত্রায় বিদ্মহে মৃত্যুরূপায় ধীমহিঃ তন্নঃ সৌরিঃ প্রচোদয়াৎ।

(৮) রাহু গ্রহ- ওঁ শিরোরূপায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ রাহুঃ প্রচোদয়াৎ।

(৯) কেতু গ্রহ- ওঁ গদাহস্তায় বিদ্মহে অমৃতেশায় ধীমহিঃ তন্নঃ কেতুঃ প্রচোদয়াৎ।




জোতিষ বিজ্ঞানে গ্রহের ভূমিকা


মানুষের গুহা জীবন হতে আধুনিক কম্পিউটার যুগ পর্যন্ত (From cave life to modern computer age) বিজ্ঞানের নব নব আবিস্কারের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও জীবনের আগমন ও প্রবাহ যেমন থেমে নেই, ঠিক তেমনি সভ্যতার বর্তমান পর্যায়ে জ্ঞানের আপরাপর শাখার মত জ্যোতিষ বিজ্ঞান চর্চা, অনুশীলন এবং গবেষণাও থেমে নেই। সমগ্র বিশ্ব জগতে শ্রেষ্ট চিন্তাশীল বিবেকবান ও প্রজ্ঞাবান জীব হিসেবে মানুষের অবস্থান শীর্ষে। তাই এই অসীম মহা বিশ্বে মানুষের অবসথান, তার স্বাধীন বিচরণশীল মনোবৃত্তি ও পারিপার্শ্বিক পরিসি’তি ইত্যাদির প্রেক্ষিতে সর্বকালে সর্বযুগে একদল নিবেদিত প্রাণ মানুষ নিজস্ব চিন্তা -চেতনা প্রসারিত করেছেন তাঁরাই হলেন জ্যোতিষী (Astrologer) ।
অতি সুপ্রাচীন কাল হতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিকাংশ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, পন্ডিত, গণিতজ্ঞ, দার্শনিক ও বিজ্ঞানী প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ, দেশ জাতি বা সমপ্রদায়ের উপর অদৃষ্টের প্রভাব আবিস্কার করতে গিয়ে আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র গুলোকে নির্বাক বিষ্ফরিত দৃষ্টি ও অনুসন্ধিৎসু মন দিয়ে অবলোকন করতে শুরু করেন। এরই ফলে এক পর্যায়ে তত্ত্ব ও তথ্যের অনন্যতার কারনে রাশিচক্রের (Zodiac) বিভিন্ন স্থানে সৌর মন্ডরের গ্রহ-নক্ষত্রাদির অবস্থানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব যে রয়েছে এ ব্যাপারে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পন্ডিত জ্ঞানী ও শিক্ষিত সম্প্রায়ের মধ্যে কোন দ্বিমতের অবকাশ নেই। এ কথা আজ পরিস্কার যে, গ্রহ গুলোর প্রভাব শুধু স্থান কালের উপরই বিরাজমান নয়; এর প্রভাব ব্যক্তি মানসের উপরও শুধু ক্রিয়াশীল নয়, মানব শরীরের গ্রন্থী (Gland) গুলোর উপরও এর সুস্পষ্ট প্রভাব বিরাজমান। এটাও সত্যি যে মানুষ জন্ম সময়ে এক একটা নক্ষত্রের অধীন হয়ে জন্মায়।
শুধু তাই নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) মতে হিসাব করে যেমন গ্রহদের অবস্থান, দূরত্ব-গতিবিধি, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ প্রভৃতির সঠিক হিসাব নির্ণয় করা যায়, তেমনি জ্যোতিষবিজ্ঞান (Astrology) মতে জীবন প্রবাহের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা প্রবাহের ইঙ্গীত, আমাদের জীবনের কোথায় সমস্যা, কোন সময়ে কিসের দ্বারা উন্নতি বা কর্মপথ কি, পরিবেশ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, রাষ্ট্রীয় অবস্থা, ব্যবসা, চাকুরী, রোগ-ভোগ, স্বাস্থ্য, আর্থিক উন্নতি বা অর্থক্ষতি ইত্যাদি বিষয় নির্ণয় করাও সম্ভব। আজ আর কারো আজানা নয় যে, চন্দ্রের (Moon) কারণে সমুদ্রে ও নদীতে জোয়ার-ভাটা হয়।
এখানে উল্লেখ করা যায় যে, জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) মতে পৃথিবীর পানির উপর চন্দ্রের প্রভাব ক্রিয়াশীল, হাজার বছর আগে থেকে জানা থাকেলেও একথার সত্যতা প্রমাণিত হয় ১৬৮৭ খৃষ্টাব্দে বিজ্ঞানী নিউটনের মাধ্যমে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র (Astrology) ও জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পথে যে সিদ্ধান্ত আসে তা অভিন্ন।
অসীত কুমার চক্রবর্ত্তীর ‘জ্যোতিষ বিজ্ঞান কথা’ গ্রন্থে জানা যায়- বহু বিজ্ঞানী চাঁদের প্রভাব সম্পর্কে জ্যোতিষ শাস্ত্রের বক্তব্য সমর্থন করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ এর মধ্যে কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গবেষণা মাধ্যমে সিদ্ধান্থে আসেন, পূর্ণচন্দ্র শুধুমাত্র মানুষের আবেগ বা চঞ্চলতাই বৃদ্ধি করে না, মানুয়ের অপরাধ প্রবণতাকেও জাগিয়ে দেয়। তাঁদের আরও বক্তব্য যে, এ সময়ে চাঁদের আলো এবং আকর্ষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তির অবনতি, বিভিন্ন প্রকার রোগ, হত্যা এবং আত্বহত্যা করার মানসিকতার সহায়ক হয়ে উঠে। ১৯৬৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ফরেনসিক সায়েন্স – ভেষজ বিজ্ঞান, রোগনিদান তত্ত্ব ও বিষ বিজ্ঞান সম্বন্ধে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্রে পৃথিরীর খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা অংশ গ্রহণ করেন। সেখানে ম্যাসাচুসেটস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডঃ জ্যানিনো একটি গবেষণা পত্র উপস্থাপিত করে বলেন, সাহিত্য এবং প্রাচীন জনশ্রুতিতে চাঁদের প্রভাবে মানুষের সামাজিক মতিভ্রম বা উম্মত্ততা-কুসংস্কার বা উদ্ভট কল্পনা নয়, সত্যই চাঁদ মানুষকে প্রভাবিত করে। ডঃ জ্যানিনো চাঁদের প্রভাব সম্বন্ধে বহু যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের উপসংহারে বলেন, শারীর বৃত্তীয় পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় মানুষের দেহের তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি পায়।
ল্যাটিন ভাষায় চাঁদকে লুনা বলে। এই লুনাই উন্মাদনা সৃষ্টির কারক বলে উন্মাদ কথার ইংরেজী লুনাটিক শব্দের উৎপত্তি মহাকবি মিল্টন তার ‘প্যারাডাইস লষ্ট’ মহাকাব্যে মানুয়ের মস্তিষ্কের সঙ্গে চাঁদের সংযোগ কথা উল্লেখ করেছেন।
একথা আজ পরিস্কার, চন্দ্রের প্রভাব ব্যক্তি বিশেষ ছাড়াও অঞ্চল বিশেষেও ক্রিয়াশীল। যা হোক চন্দ্রই যে মানুয়ের দেহস’ তরল পদার্থ এবং মনকে পরিচালিত করে তা পরিস্কার বলা আছে জ্যোতিষ শাস্ত্রে। এই শাস্ত্রের মতে কোন মানুষের মন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার জন্য চন্দ্রের পূর্ণতা, বলবত্তা এবং শুভ স্থানে অবস্থান আবশ্যক। চন্দ্রের বলবত্তা হ্রাসে

গ্রহের প্রভাব



যদি কোন জাতকের জন্ম সময়ে চন্দ্র নীচস্থ স্থানে, ক্ষীণ অবস্থায়, শনি, মঙ্গল, বা রাহুর সঙ্গে অবস্থান করে তা হলে সেই জাতকের মানসিক অসি’রতা, রোগজনিত উৎকণ্ঠা, আবেগ, অহেতুক ভয়, হিষ্টিরিয়া, অবসাদ, আতঙ্ক ইত্যাদির শিকার হয়ে সাইকোনিউরোসিস নামক মানসিক ব্যধিযুক্ত বলে পরিচিত হয়। এমন অবস্থায় জাতকের মানসিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশী। আর জন্ম সময়ে বলবান চদ্রের জাতক ব্যক্তি তেজস্বী, দীর্ঘায়ূ ধার্মিক ও সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট হয়। চন্দ্র বৃষ বা কর্কট রাশিতে অবস্থানে জাতক/জাতিকা ধনী, সদাহাস্যময় ও জনপ্রিয় হয়ে থাকে। শুভ চন্দ্রের জাতক জাতিকা সুন্দর স্বাস্থ্য, স্নেহ মমতা, প্রেম, দাম্পত্য জীবনে সুখ, সঙ্গীত, শিল্পকলা, পানির সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসা, পুস্তক, প্রকাশনা, লেখা, বুদ্ধিবৃত্তি ও অধ্যাপনা ইত্যাদি বিষয়ে সাফল্য লাভ করেন।
বর্তমানে বৈজ্ঞানিকগণ বলছেন যে চন্দ্রের রাশিচক্রাবর্তনের সংযোগ জলজ জীবজন্তু এবং মৎস্যাদির পর্যন্ত ঋতুর আবর্তন হয়ে থাকে। ঐ সকল জীবজন্তু ও মৎস্যাদির ষড়ঋতুভেদে ডিম্ব উৎপাদনের ঋতুকাল উপস্থিত হয়। এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ঐ. H. Murnofox কে Science and progress পুস্তকে Lunar Periodicity in Reproduction প্রবন্ধে বিস্তারিত বর্ণনাও করেছেন। যা হোক-
চন্দ্রের আবর্তন সময় প্রায় ২৮ দিন। নারীর ঋতুকাল ২৮ দিনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত বলে জ্যোতিষ শাস্ত্রের মত। এ মতবাদের সমর্থনে বিবর্তনবাদের স্রষ্টা ডারউইন বলেছেন- “Man is descended from fish ….. Why should not the 28 day feminine cycle be a vestige of the past when life depended on the tides, and therefore the moon?”
দেহস্থ তরল রক্তের উপর চন্দ্রের প্রভাব, নারীর ঋতুকালের আবর্তন, রক্তের গুণাগুণ ইত্যাদি ছাড়াও আমাদের দেহের তরল রসকেও চন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে। মানুয়ের জন্ম সময়ে চন্দ্রের অবস্থান এবং তার শুভাশুভ বিবেচনা করেই শারীরিক ও মানসিক শুভাশুভ নির্ণয় করা হয়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রের মতে রক্তের ক্রটিহীনতা এবং সুস্থ্য, সবল মানসিকতার জন্য চন্দ্রের বলবত্তা এবং শুভত্ব অপরিহার্য। গ্রহের প্রতিফলিত রশ্মি পরিমান ও পরিমাপ যোগ্য। গ্রহের রশ্মির পরিমাণ নির্দ্ধারণের প্রতিক্রিয়ও সম্পূর্ণবিজ্ঞান ভিত্তিক। জ্যেতিষ বিজ্ঞান কথা গ্রনে’ আরো জানা যায় যে, চেকোশ্লোভাকিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনে আধুনিক যন্ত্রগণক, গাইনোকোলজিষ্ট, ফিসিসাইষ্ট্রিস প্রভৃতি নিয়ে একটা বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগের নাম “এ্যাষ্ট্রো রিসার্চ সেন্টার”। এ্যাষ্ট্রো রিসার্চ সেন্টারের মূখ্য কাজ হল বিভিন্ন জাতকের জন্ম সময়ে সূর্য, চন্দ্র এবং অন্যান্য গ্রহদের অবস্থান নির্ণয় করে জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের, গর্ভধারণের, এমন কি অস্ত্রোপচারের সঠিক সময় নির্ণয় করে দেওয়া। একই উপায়ে তাঁরা গর্ভধারণে ইচ্ছুক রমণীর গর্ভধারনের সময়, যাদের গর্ভনাশ হয়ে যায় তাদের জন্য সঠিক সময় নির্ণয়, এমনকি তাঁরা পুত্র বা কন্যা যা চাইবেন তারও সময় জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ঐ এ্যাষ্ট্রোরিসার্চসেন্টারের আর একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী Eugen Jones তাঁর Predetermining of Sex of a child বইয়ে মত প্রকাশ করেছেন যে প্রতিটি নারীর ঋতুকাল চন্দ্রের দ্বারা প্রভাবিত এবং প্রতিটি জাতক জন্মকালীন বিভিন্ন গ্রহের অবস্থানে প্রভাবিত। তিনি আরও জানান জ্যোতিষশাস্ত্র মতে কোন নারী কখন গর্ভবতী হবেন বা হবেন না, তা আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া সম্ভব। মূক, বধির পঙ্গু ইত্যাদি সন্তানের জন্মের জন্য গর্ভধারণ সময়ে অশুভ গ্রহের অবস্থানকেই তিনি একমাত্র কারণ বলে মনে করেন।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ, গর্ভধারণ ইত্যাদি প্রক্রিয়া চেকোশ্লোভাকিয়ার মত হাঙ্গেরীতেও প্রচলিত হয়েছে। সেখানে Budapest Obstetric Clinic- এর প্রধান অধিকর্তা জ্যোতিষশাস্ত্র মতে পরিবার পরিকল্পনার উপদেশ দিয়ে সম্পূর্ন ভাবে সফল হয়েছেন।
শুধু চন্দ্রই নয়, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে সূর্য, শনি, বুধ, মঙ্গল, বৃহস্পতি, রাহু, কেতু ইউরেনাস, নেপচুন বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ভাবে মানবজীবন ও জীব জগতকে প্রভাবিত করে। আর গ্রহ নক্ষত্রের বিচার বিশ্লেষণের হিসাবের উপরেই জ্যোতিষশাস্ত্র প্রতিষ্ঠিত।
স্রষ্টা সর্বজ্ঞ; মানুষের ভাগ্য ও কর্ম এ’দুয়ের মধ্যে রয়েছে এক বন্ধন। মানুষের কিছুটা চালিত হয় কর্ম দিয়ে আর কিছু অংশ ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ যদি পার্থিব শক্তির হাতে কেবল একটা পুতুল হতো তা’হলে আধ্যাত্মিক শক্তি বলে কিছু থাকতো না। মানুষের ইচ্ছা শক্তির ওপর কর্তব্য কর্মের ফলাফল নির্ভর করে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রের মতে সৃষ্টি কর্তার বিধি নিয়মের শাসন কারক হলো গ্রহেরা। এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, জ্ঞান সমুদ্র ইসলামের সর্বপ্রথম আমীরুল মোমেনীন হজরত আলী (রাঃ) খলিফা হিসাবে সর্বপ্রথম তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি অধিক জোর দিয়েছিলেন। তাঁর অসংখ্য নীতিবাক্য ও দার্শ

শুক্রবার, ৩০ জুন, ২০১৭

Numerology সংখ্যা জ্যোতিষ



সুযোগ যে জীবনে কখন আসে, তা বলা যায় না। অনেক সময় খেয়াল না করায় জীবনের বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু জীবনে সৌভাগ্যের মুখোমুখি হওয়ার আগে থেকে যদি জানা যেত? তাহলে কী ভালো হত বলুন তো? জ্যোতিষমতে কিন্তু আগে থেকে জানাই যায়, কখন সুযোগ আপনার সামনে আসবে।
নিউমারোলজি অনুযায়ী কোন বয়সে সৌভাগ্যের চূড়োয় উঠতে পারেন আপনি, তা সহজ হিসেবেই বোঝা যাবে। আপনার জন্ম তারিখ মাস ও বছর অনুযায়ী পরপর লিখুন। তারপর প্রতিটি অঙ্ক যোগ করুন। যোগফল যদি ৯-এর বেশি হয়, তাহলে ফের দুটি অঙ্ক যোগ করুন। যা পাবেন সেটাই আপনার মূলাঙ্ক।
একটা উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝানো যাক। যদি আপনার জন্ম হয় ১৯৮৫ সালের ১৭ জুলাই। তাহলে হিসেব করবেন এ ভাবে: ১+৭+০+৭+১+৯+৮+৫, যেহেতু জুলাই বছরের সপ্তম মাস, তাই এ ক্ষেত্রে সাত সংখ্যাটা নেওয়া হয়েছে। অর্থা॥ আপনার মূলাঙ্ক হল ৩+৮ = ১+১ = ২
তাহলে এবার দেখে নেওয়া যাক, ১ থেকে ৯ মূলাঙ্কে কোন বছরে ভাগ্যের দেখা পাওয়া যেতে পারে।

মূলাঙ্ক ১: এই সংখ্যার শাসক গ্রহ হল সূর্য। নিউমারোলজি অনুযায়ী জীবনের এই অঙ্কের জাতকদের ২২ ও ৩৪ বছরে বিশেষ সুযোগ আসবে। কেরিয়ারে বড় মোড় এই সময় আপনার জীবনে অপেক্ষা করছে।

মূলাঙ্ক 2:এই সংখ্যার শাসক গ্রহ হল চাঁদ। এই অঙ্কের জাতকরা ২৪ ও ৩৮ বছর বয়সে বড় সুযোগের দেখা পেতে পারেন। সুযোগকে কাজে লাগালে আপনার জীবনের মোড় ঘুরে যাবে।

মূলাঙ্ক ৩: এই সংখ্যার শাসক গ্রহ হল বৃহস্পতি। ৩ অঙ্কের জাতকরা ৩২ বছর বয়সে কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে উল্লেখযোগ্য সৌভাগ্যের অধিকারী হতে পারেন। খেয়াল রাখবেন, যেন মিস না হয়ে যায়।

মূলাঙ্ক ৪: এই সংখ্যার শাসক গ্রহ রাহু। নিউমারোলজি জানাচ্ছে যে ৩৬ বছর বয়সে আপনার জীবনে বড় সুযোগের দেখা মিলতে পারে। জীবনে যে সাফল্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন, এই সময় সেই সাফল্য আপনার জীবনে আসবে।

মূলাঙ্ক ৫: ৫ অঙ্কের জাতকদের শাসক গ্রহ হল মঙ্গল। ৩২ বছর বয়সের আগে সাবধান হোন। এই সময়টা আপনার জীবনে খুবই উল্লেখযোগ্য বার্তা আনবে। সুযোগ কাজ লাগাতে ভুলবেন না।

মূলাঙ্ক ৬: আপনার মূলাঙ্ক ৬ হলে শুক্র আপনার শাসক গ্রহ। জীবনের ২৫, ২৭ ও ৩২ বছর বয়সে বিশেষ সুযোগ আপনার জীবনে আসতে পারে। তাকে হাতছাড়া না করলে জীবনের মোড় ঘুরে যাবে।

মূলাঙ্ক ৭: কেতু আপনার শাসক গ্রহ। আপনার জীবনে বারবার সৌভাগ্যের দেখা মিলবে। ২০, ৩০, ৩৮ ও ৪৪ বছর বয়সে সুযোগ আপনার কাছে আসবে। তাকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না।

মূলাঙ্ক ৮: এরা শনি গ্রহের দ্বারা পরিচালিত। কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্যের স্বাদ পাবেন ৩৬ ও ৪২ বছর বয়সে। একটু দেরিতে হলেও সজাগ থাকলে সাফল্যের শীর্ষে আপনি পৌঁছবেন।

মূলাঙ্ক ৯: আপনার মূলাঙ্ক ৯ হলে আপনার শাসক গ্রহ মঙ্গল। জীবনের ২৮ বছরে এরা উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মুখোমুখি হবেন। এই সময়ই বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে আপনার জীবনে। খ্যাতি ও সাফল্যের স্বাদ পাবেন আপনি

জ্যোতিষ শাস্ত্র Astrology



প্রতিটি লগ্নের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে জ্যোতিষ শাস্ত্রের বইতে অনেক বিস্তৃত ভাবে লেখা আছে। এগুলি নিতান্তই সাধারণ গুণাগুণ এবং এগুলি যে সবার ক্ষেত্রে নির্ভুল ভাবে মিলবে এমন নয়। গ্রহের বল ও অবস্থান অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে এগুলি কিছুটা না বললে লগ্নের প্রকৃতি বর্ণনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেজন্য সংক্ষেপে এদের সম্বন্ধে কিছুটা বলা হল।
     

1) মেষ - এরা স্বাধীনচেতা, জেদী, হঠকারী ও সাহসী হয়। এদের কর্মক্ষমতা খুব বেশী। এদের একটু তোষামোদ করলে এরা অনেক বেশী উদ্বুদ্ধ হয়। এরা বৈজ্ঞানিক আলোচনা ভালোবাসে এবং একটু তর্কপ্রিয় হয়। এরা অনেক বাধা বিপত্তি সত্বেও এগিয়ে যেতে পারে। এরা শরীরে আঘাত বা মস্তিষ্ক সংক্রান্ত অসুখে ভুগতে পারে। হঠাৎ কোনো কিছুতে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রবণতা থাকতে পারে।


2)  বৃষ - এই লগ্নে জাত স্ত্রীলোকেরা সুশ্রী হতে পারে। এই লগ্নের জাতক জাতিকার অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়পরায়ণ হওয়া সম্ভব। কল্পনা প্র্বণতা বা প্রভুত্ব করার ইচ্ছা বেশী মাত্রায় থাকতে পারে। স্মৃতিশক্তি ভাল থাকবে। তামসিক ভাব থাকতে পারে এবং প্ররোচিত হলে অতিমাত্রায় ক্রুদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।


3) মিথুন - এদের মধ্যে একটু দ্বৈত ভাব থাকবে এবং কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় ভুগতে পারে। এর জাতকেরা চঞ্চলমতি ও অস্থিরচিত্ত হতে পারে। স্নায়ুর অসুখে এদের আক্রান্ত হবার প্রবণতা থাকে। এদের বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে মেলামেশায় সংযত হলে ভাল হয়।
    

4) কর্কট - সৌন্দর্যপ্রিয়, আত্মবিশ্বাসী, সদালাপী, আবেগপ্রবণ, দীর্ঘদেহী। এরা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হতে পারে এবং বিয়ের ব্যাপারে হতাশায় ভুগতে পারে। এদের চট করে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে এবং কফের প্রবণতা থাকে।


5)সিংহ - এরা গাম্ভীর্যপ্রিয় এবং এদের একটু অহমিকার ভাব থাকবে। এরা আত্মবিশ্বাসী হয় এবং অনায়াসেই অপরের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করতে পারে। এরা অধ্যবসায়ী ও উদ্যোগী হতে পারে এবং রবি দুর্বল না হলে এরা অসাধারণ জীবনী শক্তির অধিকারী হয়। এই লগ্নের জাতিকারা অনেক সময়েই অত্যধিক স্বাধীনচেতা হওয়ায় বিবাহিত জীবন খুব সুখের হয় না।
             

6)কন্যা - সাহিত্য, শিল্প ও সঙ্গীতপ্রিয়। লেখালেখির অভ্যাস থাকতে পারে। মানসিকতার দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব। আরাম প্রিয় ও ছেলেমানুষী স্বভাব হতে পারে। সাধারণতঃ স্ত্রী বা স্বামীর ব্যাপারে সুখী হয়।


7) তুলা - দূরদৃষ্টিসম্পন্ন; মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে সমভাব। জন সাধারণের উপর প্রভাব থাকতে পারে। খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বাস্তবতা হারিয়ে যেতে পারে। বিবাহিত জীবন খুব সুখের নাও হতে পারে।


8) বৃশ্চিক - একটুতেই রেগে যেতে পারে। কর্কশ ব্যবহার। সবাইকে নিজের মতে টেনে আনার চেষ্টা। জেদী; চঞ্চলতা। গোপনীয়তা। এরা একটু প্রভুত্ব প্রিয় হতে পারে এবং ব্য্বহারের জন্য অনেক সময়েই অন্যের কাছে অপ্রিয় হয়।

9) ধনু - আদর্শপ্রিয়তা। রক্ষণশীলতা। এই লগ্নের জাতকেরা অনেক সময়েই জীবনে সফলতা লাভ করে। এদের মধ্যে আধ্যাত্মিক ভাব থাকে এবং ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়। এদের অনেকেই ভুল বুঝতে পারে কারণ এদের কথা বলার ধরণ অনেকের পছন্দ নয়।


10) মকর - পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার ক্ষমতা থাকে। এদের জীবন ঘটনা বহুল ও দুঃখ্পূর্ণ হয়। এরা উচ্চাভিলাষী হয় এবং বাধা বিপত্তি অতিক্রম করতে ভালবাসে। এদের মধ্যে নিয়মানুবর্তীতা ও শৃঙ্খলাবোধ থাকবে। এদের স্ত্রী বা স্বামী ভাগ্য সাধারণ ভাবে ভাল। লোকের বিপদে এরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।


11) কুম্ভ - দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গী, ধীর স্থির ও একাগ্রতা এই লগ্নের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এই লগ্নের জাতক একটু একাকীত্ব পছন্দ করতে পারে। এরা মানুষের চরিত্র খুব ভাল বুঝতে পারে এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হয়।


12) মীন - এই লগ্নের জাতকেরা সাধারণ্তঃ একটু রক্ষণশীল হয়। ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকবে। আপাত উচ্ছ্বাসের মধ্যেও গাম্ভীর্য থাকবে। এদের একটু স্পর্শকাতর হওয়া সম্ভব। পায়ের অসুখে ভুগতে হতে পারে। স্বামী বা স্ত্রীর চর্মরোগ বা স্নায়ুর অসুখ হতে পারে।
মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে এই বৈশিষ্ট্যগুলি নিতান্তই সাধারণ। এগুলি মিলতেও পারে নাও মিলতে পারে। কারণ কোনো জাতকের চেহারা বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য শুধু লগ্ন কোন রাশিতে তার উপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন গ্রহের বল ও অবস্থানের উপর সেটা অনেকাংশেই নির্ভরশীল।




 





জ্যোতিষ শাস্ত্র Astrology

             জ্যোতিষ বিদ্যাকে বেদের চক্ষুও বলা হয়

জ্যোতিষ হলো সেই বিদ্যা, যার দ্বারা আকাশে অবস্থিত গ্রহ স্থিতির দ্বারা অতীত, ভবিষৎ এবং বর্তমান সম্বন্ধে আমরা জানতে পারি। জ্যোতিষ শাস্ত্রের অপর নাম জ্যোতিঃ শাস্ত্র। জ্যোতি শাস্ত্রের অর্থ হলো যে শাস্ত্র জীবনে আলো দেয়, প্রকাশ দেয় অর্থাৎ জ্যোতি দেয়।

.

জ্যোতিষের উৎপত্তি কবে হয়েছে এ সম্বন্ধে নিশ্চিত রূপে কিছু বলা না গেলে ও, বিশ্বের প্রাচীন গ্রন্থ বেদে জ্যোতিষের উল্লেখ আছে। জ্যোতিষ বেদেরই অংগ। বেদের ছয়টি অঙ্গ ----১) শিক্ষা ,২) কল্প, ৩) ব্যাকারণ, ৪) নিরুক্ত, ৫) ছন্দ ও ৬) জ্যোতিষ। জ্যোতিষ বিদ্যাকে বেদের চক্ষুও বলা হয়।

জ্যোতিষের উপযোগিতা বলতে গেলে এই বিশ্বসংসারের প্রতিটা মানুষ বা প্রানী গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাবের অধীন। তাদের জন্ম কোষ্ঠী অনুযায়ী প্রতিটা মানুষ পৃথক প্রকৃতির, কেউ সুন্দর কেউ অসুন্দর, কেউ মন্দ বুদ্ধি কেউ অল্প বুদ্ধ্ি, প্রত্যেকের কোষ্ঠির গ্রহ সম্নবয় অনুযায়ী তার জীবনে সুখ দুঃখের উদয় হয়। যেরূপ ঔষধি সেবন করে রোগ দূর করা যায় বা কম করা যায় সেইরূপ মানুষের জ্যোতিষিও বিশ্লেশন দ্বারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে মানুশ সুস্থ সুখী জীবন লাভ করতে পারে। কেবল মাত্র অদৃষ্টের উপর বসে না থেকে এবিদ্যা ভাগ্য ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। দৈনিক জীবনে জ্যোতিষের প্রয়োজনীয়তা অসাধারন। বিবাহ, সন্তান, ব্যবসা, চাকরী, যাত্রা, ভবন নির্মান ইত্যাদি প্রতিটা মহত্ত্বপুর্ণ জ্যোতিষ শাস্ত্রের মার্গদর্শন মানুষের জীবনে সহায়ক হয়।

জ্যোতিষের মুখ্যত দুইটি ধারা --- ১) গণিত জ্যোতিষ (Astronomy) ২) ফলিত জ্যোতিষ(Astrology)।তাই যে বিদ্যার দ্বারা মহাকাশ, নক্ষত্র ও গ্রহদের গতি অবস্থান ও চরিত্র জানা যায় সেই বিদ্যাকে গণিত জ্যোতিষ বলা হয়, আর যে বিদ্যার দ্বারা গ্রহদের অবস্থান সাপেক্ষে মানুষের জীবনে সুখ-দু:খের অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ এর অনুমান করা হয় সেই বিদ্যাকে ফলিত জ্যোতিষ বলা হয়।

আমাদের আকাশ অনন্ত কোটি নক্ষত্র দ্বারা গঠিত। কিছু কিছু নক্ষত্র সূর্যের থেকেও কয়েক গুন বড়। যারা আমাদের থেকে এত দূরে অবস্থিত যে তাদের আলো আমাদের পৃথিবীতে পৌছাতে কয়েক বছর লেগে যায়। যদিও আলোর গতিবেগ ১,৮৬,০০০ মাইল প্রতি সেকেন্ড।

অন্য তারা গুলোর মাঝেই একটি মন্ডল আছে যা সৌর মন্ডল নামে খ্যাত। যার মাঝে সুর্য আছে এবং তার চারি দিকে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ যেমন বুধ, শুক্র, বৃহ:স্পতি ইত্যাদি ঘুর্ণায়মান। এই সব গ্রহ গুলি সুর্যের শক্তিতেই তার চারিদিকে ঘুর্ণয়মান, সুর্যের পরিমন্ডলের বাইরে এরা যেতে পারবে না। সেই জন্য এই পরিমন্ডল কে সুর্য মন্ডল বা সৌর মন্ডল বলা হয়। আমাদের সম্পুর্ন ফলিত জ্যোতিষ এই সৌরমন্ডলের উপর আধারিত।