শনিবার, ১ জুলাই, ২০১৭

গ্রহের প্রভাব



যদি কোন জাতকের জন্ম সময়ে চন্দ্র নীচস্থ স্থানে, ক্ষীণ অবস্থায়, শনি, মঙ্গল, বা রাহুর সঙ্গে অবস্থান করে তা হলে সেই জাতকের মানসিক অসি’রতা, রোগজনিত উৎকণ্ঠা, আবেগ, অহেতুক ভয়, হিষ্টিরিয়া, অবসাদ, আতঙ্ক ইত্যাদির শিকার হয়ে সাইকোনিউরোসিস নামক মানসিক ব্যধিযুক্ত বলে পরিচিত হয়। এমন অবস্থায় জাতকের মানসিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশী। আর জন্ম সময়ে বলবান চদ্রের জাতক ব্যক্তি তেজস্বী, দীর্ঘায়ূ ধার্মিক ও সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট হয়। চন্দ্র বৃষ বা কর্কট রাশিতে অবস্থানে জাতক/জাতিকা ধনী, সদাহাস্যময় ও জনপ্রিয় হয়ে থাকে। শুভ চন্দ্রের জাতক জাতিকা সুন্দর স্বাস্থ্য, স্নেহ মমতা, প্রেম, দাম্পত্য জীবনে সুখ, সঙ্গীত, শিল্পকলা, পানির সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসা, পুস্তক, প্রকাশনা, লেখা, বুদ্ধিবৃত্তি ও অধ্যাপনা ইত্যাদি বিষয়ে সাফল্য লাভ করেন।
বর্তমানে বৈজ্ঞানিকগণ বলছেন যে চন্দ্রের রাশিচক্রাবর্তনের সংযোগ জলজ জীবজন্তু এবং মৎস্যাদির পর্যন্ত ঋতুর আবর্তন হয়ে থাকে। ঐ সকল জীবজন্তু ও মৎস্যাদির ষড়ঋতুভেদে ডিম্ব উৎপাদনের ঋতুকাল উপস্থিত হয়। এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ঐ. H. Murnofox কে Science and progress পুস্তকে Lunar Periodicity in Reproduction প্রবন্ধে বিস্তারিত বর্ণনাও করেছেন। যা হোক-
চন্দ্রের আবর্তন সময় প্রায় ২৮ দিন। নারীর ঋতুকাল ২৮ দিনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত বলে জ্যোতিষ শাস্ত্রের মত। এ মতবাদের সমর্থনে বিবর্তনবাদের স্রষ্টা ডারউইন বলেছেন- “Man is descended from fish ….. Why should not the 28 day feminine cycle be a vestige of the past when life depended on the tides, and therefore the moon?”
দেহস্থ তরল রক্তের উপর চন্দ্রের প্রভাব, নারীর ঋতুকালের আবর্তন, রক্তের গুণাগুণ ইত্যাদি ছাড়াও আমাদের দেহের তরল রসকেও চন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে। মানুয়ের জন্ম সময়ে চন্দ্রের অবস্থান এবং তার শুভাশুভ বিবেচনা করেই শারীরিক ও মানসিক শুভাশুভ নির্ণয় করা হয়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রের মতে রক্তের ক্রটিহীনতা এবং সুস্থ্য, সবল মানসিকতার জন্য চন্দ্রের বলবত্তা এবং শুভত্ব অপরিহার্য। গ্রহের প্রতিফলিত রশ্মি পরিমান ও পরিমাপ যোগ্য। গ্রহের রশ্মির পরিমাণ নির্দ্ধারণের প্রতিক্রিয়ও সম্পূর্ণবিজ্ঞান ভিত্তিক। জ্যেতিষ বিজ্ঞান কথা গ্রনে’ আরো জানা যায় যে, চেকোশ্লোভাকিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনে আধুনিক যন্ত্রগণক, গাইনোকোলজিষ্ট, ফিসিসাইষ্ট্রিস প্রভৃতি নিয়ে একটা বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগের নাম “এ্যাষ্ট্রো রিসার্চ সেন্টার”। এ্যাষ্ট্রো রিসার্চ সেন্টারের মূখ্য কাজ হল বিভিন্ন জাতকের জন্ম সময়ে সূর্য, চন্দ্র এবং অন্যান্য গ্রহদের অবস্থান নির্ণয় করে জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের, গর্ভধারণের, এমন কি অস্ত্রোপচারের সঠিক সময় নির্ণয় করে দেওয়া। একই উপায়ে তাঁরা গর্ভধারণে ইচ্ছুক রমণীর গর্ভধারনের সময়, যাদের গর্ভনাশ হয়ে যায় তাদের জন্য সঠিক সময় নির্ণয়, এমনকি তাঁরা পুত্র বা কন্যা যা চাইবেন তারও সময় জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ঐ এ্যাষ্ট্রোরিসার্চসেন্টারের আর একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী Eugen Jones তাঁর Predetermining of Sex of a child বইয়ে মত প্রকাশ করেছেন যে প্রতিটি নারীর ঋতুকাল চন্দ্রের দ্বারা প্রভাবিত এবং প্রতিটি জাতক জন্মকালীন বিভিন্ন গ্রহের অবস্থানে প্রভাবিত। তিনি আরও জানান জ্যোতিষশাস্ত্র মতে কোন নারী কখন গর্ভবতী হবেন বা হবেন না, তা আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া সম্ভব। মূক, বধির পঙ্গু ইত্যাদি সন্তানের জন্মের জন্য গর্ভধারণ সময়ে অশুভ গ্রহের অবস্থানকেই তিনি একমাত্র কারণ বলে মনে করেন।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ, গর্ভধারণ ইত্যাদি প্রক্রিয়া চেকোশ্লোভাকিয়ার মত হাঙ্গেরীতেও প্রচলিত হয়েছে। সেখানে Budapest Obstetric Clinic- এর প্রধান অধিকর্তা জ্যোতিষশাস্ত্র মতে পরিবার পরিকল্পনার উপদেশ দিয়ে সম্পূর্ন ভাবে সফল হয়েছেন।
শুধু চন্দ্রই নয়, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে সূর্য, শনি, বুধ, মঙ্গল, বৃহস্পতি, রাহু, কেতু ইউরেনাস, নেপচুন বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ভাবে মানবজীবন ও জীব জগতকে প্রভাবিত করে। আর গ্রহ নক্ষত্রের বিচার বিশ্লেষণের হিসাবের উপরেই জ্যোতিষশাস্ত্র প্রতিষ্ঠিত।
স্রষ্টা সর্বজ্ঞ; মানুষের ভাগ্য ও কর্ম এ’দুয়ের মধ্যে রয়েছে এক বন্ধন। মানুষের কিছুটা চালিত হয় কর্ম দিয়ে আর কিছু অংশ ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ যদি পার্থিব শক্তির হাতে কেবল একটা পুতুল হতো তা’হলে আধ্যাত্মিক শক্তি বলে কিছু থাকতো না। মানুষের ইচ্ছা শক্তির ওপর কর্তব্য কর্মের ফলাফল নির্ভর করে।
জ্যোতিষ শাস্ত্রের মতে সৃষ্টি কর্তার বিধি নিয়মের শাসন কারক হলো গ্রহেরা। এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, জ্ঞান সমুদ্র ইসলামের সর্বপ্রথম আমীরুল মোমেনীন হজরত আলী (রাঃ) খলিফা হিসাবে সর্বপ্রথম তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি অধিক জোর দিয়েছিলেন। তাঁর অসংখ্য নীতিবাক্য ও দার্শ